BDINFO.ORG

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > আলজাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের পরে পাঠক প্রতিক্রিয়া

আলজাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের পরে পাঠক প্রতিক্রিয়া

6 February 2021, by A K M Wahiduzzaman


ডয়েচে ভেলের "সেলফি" রিপোর্টার অনুপম দেব কানুনজ্ঞ, যার নিজের একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার যোগ্যতা নাই, সে আল জাজিরার রিপোর্টের "খটকা" ধরছে। খটকাগুলা কেন জানি হাসিনার কাছের মানুষদের পোস্ট-স্ট্যাটাসের সাথে মিলে যায়।

আল জাজিরা তাদের রিপোর্টে প্লেন থেকে নামিয়ে সেলিম প্রধানের গ্রেপ্তারের পুরো বিষয়টার সঙ্গে হারিসের বক্তব্যের লাইন বা লাইন সাদৃশ্য, সিকোয়েন্সসহ তুলে ধরার পরেও শেখ হাসিনার এজেন্ট অনুপম দেব কানুনজ্ঞ নাকি "হারিস আহমেদের কথায় র‍্যাব-পুলিশ গুন্ডামি করে বা টাকার ভাগ পায়" এইটার কোন প্রমাণ পায় নাই রিপোর্টে। তো অনুপম এখানে কী ধরণের প্রমাণ আশা করছিলো, বেনজির আহমেদের কাছে হারিস দরখাস্ত দিয়েছে ইমেইল বা ফ্যাক্স করে যে সেলিমকে ধরেন, সেইটার কপি?

অনুপমের কি ধারণা, সরকারি অফিসারদের ব্যাংক একাউন্টে হারিস ঘুষের টাকা পাঠায়? ঘুষের টাকা ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার হয়? তিনি সেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট আশা করেছিলেন? এই বুদ্ধি নিয়া এরা সাংবাদিকতা করে?

হাঙ্গেরি-প্যারিসে হারিসের কাছে টাকা কীভাবে যায়, এইটা নাকি অনুপম দেব কানুনজ্ঞ বুঝতে পারে নাই, লেনদেনের প্রমাণ পায় নাই। তাইলে আল-জাজিরা যে আজিজের ভাইয়ের ভুয়া কোম্পানির নামে বাঙ্কবেড সাপ্লাইয়ের কাগজপত্র দিল (), বাংলাদেশের দুই সেনা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ডেলিভারি এজেন্টের কাগজ দিল (), সেইগুলা কী? এই কাগজপত্র তো আল-জাজিরার ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাচ্ছে।

আনিস আহমেদ মালয়েশিয়ায় নিজের নামে প্রোপার্টি কিনেছে, এইটা আল-জাজিরা তাদের পাসপোর্টের নম্বরসহ প্রোপার্টি পেপার () দেখানোর পরেও শেখ হাসিনার সহকারীর স্ট্যাটাস অনুবাদ করা সাংবাদিক অনুপম দেব কানুনজ্ঞ নাকি বিশ্বাস করতে পারতেছে না। এই ব্যাপারে আল-জাজিরা মালয়েশিয়ার দূতাবাসকে কেন জিজ্ঞেস করলো না প্রশ্ন তুলছে সে, যদিও সে নিজে সাংবাদিক হয়েও এখনও এই প্রশ্নটা দূতাবাসকে করে নাই।

রাষ্ট্রপতিকে নাকি এমনভাবে দেখানো হইছে যে দুই পলাতক আসামী সেইখানে থাকবে এইটা জেনেই সে বিয়েতে গেছিল। তো আব্দুল হামিদ তো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে লীগের নেতা ছিল, এই হারিস-আনিসদের সাথেই ঘুরতো একসময়, সে এখন আর তাদের কাউকে চেনে না? পিছনে দাঁড়ায় থাকলেও দেখে না?

হাসিনার আর দশটা সেবাদাসের মত অনুপমও হাসিনার সাথে হারিসদের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ পাইতেছে না নাকি। তো হাসিনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা সংস্থা ডিজিডিপি যে হারিসের মধ্যস্থতায় হাঙ্গেরি থেকে ইজরাইলী স্পাইওয়্যার কিনলো, সেইখানে যে সরাসরি সিল এবং সাইন আছে ঐ সংস্থার প্রধানের, সেইগুলা চোখে পড়লো না? হাসিনার অনুমোদন ছাড়া দেশের মিলিয়ন ডলার হাঙ্গেরি চলে গেছে? ()

হাঙ্গেরিতে সরকারি নজর এড়ায়ে টাকা পাচার, কিংবা সামির ডিজিএফআইর লোকদের সামনেই আইরিশ ম্যালোনির কথাবার্তা রেকর্ড করে ফেলতে পারাতে অনুপমের খুব কষ্ট হচ্ছে। বুঝতে পারছি। কথা হচ্ছে আধুনিক রেকর্ডারগুলা যে আগের মত রেডিওর সাইজের হয় না, এইটা মনে হয় অনুপমেরা জানেও না।

সবশেষে বলবো: অনুপম-খালেদ গং, শেখ হাসিনার সহকারীদের পোস্ট অনুবাদ না করে, পারলে এমন একটা প্রতিবেদন বের করে দেখাও।


চ্যালেঞ্জ দিতেছে খালি- প্রমাণ দেন আল জাজিরা মিথ্যা বলছে! হাজারো প্রমাণ না, একটা দিমু। আল জাজিরা তাদের তথ্যচিত্রে ডিএইচএলের একটা ছবি ব্যবহার করছে। একটা রিসিপ্টের ছবি। যদিও রিসিপ্টের উপরে ১৮ মার্চ ২০১৯ লেখা, ধরে নিতেছি এটা কোনো ইনকোয়ারির জবাব। তো সেইখানে তাদের শিপমেন্ট নম্বর 1494602955, ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ বেলা ১১-৫৫তে বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির ঠিকানায় ডেলিভারি দেয়া হইছে।

তো রিসিপ্টের নিচে additional shipment details দেয়া। সেখানে বলা হইছে প্রেরক মেজর সামিউর রশীদ, আর তার ঠিকানা দেওয়া হইছে। সেখানে আরো দেয়া আছে কয়টার সময় প্যাকেজটা পিকাপ করা হইছে। সেখানে লেখা ১১ জানুয়ারি ২০১৫, বেলা ১২-৪৬ এ এটা পাঠানোর জন্য জমা দেয়া হইছে। তো জাজিরার দাবি বিজিবির ওই মেজর সামিউর রশীদ ওই প্যাকেজে করে ভুয়া কাগজপত্র পাঠাইছে বুদাপেস্টে।

ডিএইচএলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ফেভার হিসেবে আমি ওইদিন ঢাকা থেকে পাঠানো সব পার্সেলের লগটা চাইছি। উনি ৯ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখের লগ আমারে দিছেন। আমি এখানে ১১ জানুয়ারি ২০১৫ ঘড়ির ০০-০১ থেকে রাত ২৩-৫৯ পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘন্টার লগ তুলে দিতেছি তিনটা ছবিতে।

ছবির বা দিকে আছে প্রথমে শিপমেন্ট আইডি, তারপর কলামে কোথা থেকে যাচ্ছে ঢাকার কোড DAC, তারপর কলামে কোথায় যাচ্ছে বুদাপেস্ট হইলে দেখাবে BUD, একটা আছে BOD, ওইটা ফ্রান্সের বোর্দোর কোড। তারপরের কলামে কোন তারিখে কয়টার সময় প্যাকেট জমা দেয়া হইছে তার বিবরণ, তারপর প্রেরকের নাম, একাউন্ট নম্বর, তারপর প্রাপকের নাম। না পাইলাম শিপমেন্ট আইডির মিল, না পাইলাম প্রেরকের নামের লগে কারো মিল, ওই সময়ের কয়েক মিনিট আগে আর পরে ব্রিটিশ কাউন্সিল আর ডাচ বাংলার দুইটা প্যাকেজের উল্লেখ পাইলাম খালি।

এইযে ফটোশপ দিয়া ছবি বানায়া দুইনম্বরি, এইডি দিয়া আল জাজিরা আর্মি চিফরে ফাঁসাইতে চাইছে। আমি দিলাম ডিএইচএলের অরিজিনাল ডাটা। একসেস থাকলে প্রমাণ করেন আমি মিথ্যা বলতেছি, নাইলে স্বীকার করে নেন আল জাজিরা মিথ্যাবাদী
Omi Rahman Pial, 04/02/2021


আহমেদ ক্ল্যান, শেখ হাসিনা, ও মাফিয়াতন্ত্র: এ্য টু-ওয়ে ট্রানজেকশনাল রিলেশনশিপ

মাফিয়াতন্ত্রের স্তাবক ও সরকারি প্রচারলীগের পক্ষ থেকে নতুন একটি বয়ান হাজির করা হচ্ছে যে, ঠিক আছে, আহমেদ ক্ল্যান খারাপ, কিন্তু শেখ হাসিনা ভালো, তাকে কেন টানা হলো?! শেখ হাসিনা তো পূত-পবিত্র! তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তার পক্ষে কি মাফিয়াদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া শোভা পায়?! কাম অন ডিয়ার প্রোপাগান্ডিস্ট, ডু বেটার সার্ভিস টু ইউর পে স্লিপ। চলেন দেখি শেখ হাসিনা ও মাফিয়াতন্ত্রের লিংকটা কী এবং শেখ হাসিনাই কেন এই মাফিয়াতন্ত্রের সর্দারনী।

১। হারিস, জোসেফ, আনিস যে মোস্তফাকে ৯টি গুলি করেছে সে ভাগ্যক্রমে কিছু সময় বেঁচে থাকে এবং হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিজে বলে গিয়েছে যে তাকে কারা গুলি করেছে। যেকোনো বিচারে এটি অকাট্য প্রমাণ হতে পারে যে ভিক্টিম মারা যাওয়ার আগে বলে যাওয়া যে তার খুনী কারা। আমরা ফেনীর নুসরাতের ঘটনায়ও তাই দেখেছি। মোস্তফাকে খুনের ঘটনাটি কখন ঘটেছে? ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের কিছু দিন আগে। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীনই শেখ হাসিনা যেই ক্ষমতায় আসলো, এত স্পষ্ট, অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণের উপস্থিতির পরও ওই খুনের মামলা গতি হারালো। খুনী হারিস-জোসেফ-আনিসরা শেখ হাসিনার শাসনামলে দণ্ডিত হয়নি। কেন? উত্তর বলে দিতে হবে?

২। এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, শেখ হাসিনা কি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বলে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যহতি দিতে পারতো? আইনগতভাবে অবশ্যই পারতেন না। আড়ালের ক্ষমতা ব্যবহার করে পারতেন কী? আমার মনে হয় পারতেন যদি সাক্ষী ম্যানিপুলেট করার সুযোগ থাকতো। যেখানে ভিক্টিম প্রধান সাক্ষী এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দী দিয়ে গিয়েছে সেখানে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার রাজনৈতিক ঝুঁকি শেখ হাসিনা নেন নাই। এর আরো একটি বড় কারণ শেখ হাসিনা তার প্রথম মেয়াদে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক হয়ে উঠেন নি, তখনো তাকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষমতার ভরকেন্দ্রগুলোকে ভারসাম্য করে ক্ষমতার রজ্জুর উপর হাঁটতে হতো। তিনি তখন এতটা একচ্ছত্র, বেপরোয়া নিয়ন্ত্রণহীন ছিলেন না বা সেটি হওয়া সম্ভবও ছিলো না।

৩। তাহলে ২০০৮ সালের পর কী হলো যে তিনি এই একচ্ছত্র ক্ষমতা পেয়ে গেলেন? আমি বলবো, দুটো ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যকে পাল্টে দিয়েছে: প্রথম ঘটনা, ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন যেখানে বিএনপি-জামাতপন্থী সামরিক কর্মকর্তারাই বিএনপি-জামাত সরকারকে উৎখাত করে এবং পরবর্তীতে তারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যাকল্যাশ থেকে মুক্ত থাকতে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ সামরিক বাহিনী, যেটি বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বা প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলো সেখানে একটি রাজনৈতিক দল বা পক্ষের প্রতি অতিরিক্ত সুবিধা ২০০৭ সালের পর তৈরি হয়ে যায়। সামরিক বাহিনীর এই যে প্রথাগত ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং তৎপরবর্তী যে বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন তাতে তিনি দুঃসাহসী হয়ে উঠেন। প্রথাগত ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার ২০০৮ পরবর্তী সময়ে একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। দ্বিতীয় ঘটনা, বিডিআর বিদ্রোহ। এখানকার পুরো আলোচনাটিই স্পর্শকাতর, কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের আলোচনাটি আরো বেশি। তাই বিস্তারিত বললাম না। কিন্তু এই ঘটনাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এত বেশি দুর্বল করে দেয় যে তারা ঘাবড়ে যায়।

৪। আমি মনে একটি গণতান্ত্রিক দেশে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। কিন্তু কোন দেশে যখন একটি রাজনৈতিক টোটালিটেরিয়ান ব্যবস্থাকে উৎখাত করে জনগণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়, তখন সেনাবাহিনীও ক্ষমতা ও ক্ষমতার লড়াইয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। তারা যদি জনগণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতার পক্ষের শক্তি হয়ে উঠে সেক্ষেত্রে তারা অবৈধ স্বৈরাচারী শাসককে ডিফেন্ড করবে না এবং জনগণের কাতারে এসে দাঁড়াবে। দুনিয়ার কোন দেশেই গণবিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান সফল হয় নাই সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশের সক্রিয় সমর্থন (সরাসরি) বা পরোক্ষ সমর্থন (অবৈধ শাসককে সার্ভ করতে অস্বীকার করা) ছাড়া।

৫। প্রশ্ন করতে পারেন যে, ২০১৮ সালের যে শেখ হাসিনা খুনী জোসেফকে মুক্তি দিয়েছেন এই একই একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকলে কি তিনি ১৯৯৬ সালেই জোসেফকে মুক্তি দিতেন? আমি বাজি ধরে বলতে পারি তিনি তাই করতেন। সুতরাং যারা আকারে-ইঙ্গিতে বলছেন এরা শেখ হাসিনার “ম্যান” না, তারা জেনে-বুঝে সত্য লুকাচ্ছে। আহমেদ ক্ল্যানই শেখ হাসিনার “ম্যান”, আহমেদ ক্ল্যানের মতো এরূপ বহু ক্ল্যান, মাফিয়াই শেখ হাসিনার ক্ষমতার উৎস - আগে পোষাক ছাড়া ছিলো, এখন অনেককে পোষাকে ঢুকিয়ে করা হয়েছে।

৬। আরো খারাপ চিত্র হচ্ছে এই সম্পর্কটা ট্রানজেকশনাল, অর্থাৎ আল জাজিরাতে যেটি দেখানো হয়েছে যে, কেবল আহমেদ ক্ল্যান শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে যে চুরি-দুর্নীতি-খুনের দায় থেকে অব্যহতি পাচ্ছেন তা না, বরং শেখ হাসিনাও আহমেদ ক্ল্যানকে ব্যবহার করে তার ক্ষমতা সুসংহত করেছেন। ১৯৯৬ সালের আগে শেখ হাসিনা আহমেদ ক্ল্যানদের (আওরঙ্গ, লিয়াকত, হাজারি, ওসমানদের মতো) স্ট্রিট গ্যাং বন্দুকবাজির উপর নির্ভর করে রাজনীতি করেছেন [কেউ বলতে পারে তখন তাকে তাই করতে হতো, এমনটা বললে তার সত্যতা রয়েছে], এবং ২০০৮ পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা সেই ট্রানজেকশনের নতুন ইকুয়েশন নিয়ে হাজির হয়েছেন। এতদিন তিনি পোশাক ছাড়া ভাইদের বন্দুক ব্যবহার করেছেন ক্ষমতার লড়াইয়ে, ২০১৪ সালে তিনি আহমেদ ক্ল্যানের জেনারেল আজিজকে বিজিবি’র মহাপরিচালক করে এবং ২০১৩-২০১৪ সালের রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতা মোকাবেলা এবং ভোট-বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে বিজিবিকে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে, এবং ২০১৮ সালে জেনারেল আজিজকে সেনা প্রধান করে সেনাবাহিনীকে সাক্ষী গোপাল হিসেবে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে আয়োজন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন। এই সম্পর্কটি জিয়া হাসান ভাই চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সুতরাং এই আহমেদ ক্ল্যান ও শেখ হাসিনার সম্পর্কের একটি দিকে ফোকাস করে দালাল মিডিয়া ও সরকারের স্তাবকরা সমস্ত দোষ জেনারেল আজিজ ও তার ভাইদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে, অথচ এই ট্রানজেকশনাল সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ।

৭। বর্তমান রেজিম মাফিয়াতন্ত্র কিনা বা শেখ হাসিনা মাফিয়া কিনা এইটা নিয়ে কিছু বাকোয়াজ কথা হচ্ছে। শেখ হাসিনা যে মাফিয়া পালতেন, পালেন, এবং পুষেন এইটা শুনে যারা আশ্চর্য হয় তারা হয় নাইভ অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন না, না হয় অসৎ অর্থাৎ শেখ হাসিনার মাফিয়াতন্ত্রের সুবিধাভোগী। শেখ হাসিনার মাফিয়া পোষা এবং মাফিয়া সর্দার হওয়ার ইতিহাস বহু পুরনো। যারা জানেন না তারা হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ, লিয়াকত হোসেন, জয়নাল হাজারি, তাহের, নাসির, ওসমানসহ সারা বাংলাদেশে বহু টপ টেরর পোষার ইতিহাস শেখ হাসিনার ইতিহাস। এই কিছুদিন আগেও শেখ হাসিনা জয়নাল হাজারির মতো টপ টেররকে তার উপদেষ্টা বানিয়েছেন, এবং কেবল উপদেষ্টাই বানান নি, জনগণের তহবিল থেকে তাকে ৪০ লক্ষ টাকা “চিকিৎসা খরচ” দিয়েছেন। একটা বিষয় কনস্ট্যান্ট: শেখ হাসিনা ও এই ক্ষুদে মাফিয়াদের ট্রানজেকশনাল সম্পর্কটা টেকসই, অর্থাৎ কেউ কাউকে ছেড়ে যায় না [সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া]। যেভাবে আহমেদ ক্ল্যান ও শেখ হাসিনা একে অপরকে ব্যবহার করেছে, ঠিক একইভাবে বাকীদেরও শেখ হাসিনা ব্যবহার করেছে, এবং সময় বুঝে প্রতিদানও দিয়েছে। এর ডিফেন্সে কেউ বলতে পারেন তখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগুলোর হয়তো দরকার ছিলো। এ ধরনের যুক্তি হয়তো পুরোপুরি নাকচ করা যাবে না, কিন্তু তাতে সত্য নাই হয়ে যায় না। সত্য হচ্ছে এ ধরনের বহু গুণ্ডা, মাস্তান, দুর্নীতিবাজ লোক তিনি পালতেন, পুষতেন। প্রশ্ন উঠতে পারে এখনও পালেন? অবশ্যই! তবে ধরন বদলেছে। আগে পোষাক ছাড়া গুণ্ডা পালতেন, এখন পোষাক ধারী গুন্ডা। হারিস আল জাজিরার ডকুমেন্টারিতে যা বলেছেন তার একদণ্ডও মিথ্যে না যে এখন আর গুণ্ডা লাগে না, এখন র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি এই পোষাকধারী লোকজনই সে উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এদেরকে কেবল শেখ হাসিনাই ক্ষমতা ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মারতে, ধরতে, গুম করে দিতে, ভয় দেখাতে ব্যবহার করেন না, বরং শেখ হাসিনার পালা ছোট মাফিয়া হারিসরাও এদেরকে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যবহার করেন বলে আমরা আল জাজিরার ডকুমেন্টারির মাধ্যমে জেনেছি [তার প্রতিপক্ষ সেলিম প্রধানকে র‌্যাব ব্যবহার করে ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা]। সুতরাং শেখ হাসিনা ও হারিসদের মধ্যে এখন এক ভয়াবহ আনহোলি এলায়েন্স তৈরি হয়েছে যে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে গুণ্ডা হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করেছে।

৮। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে কেবল একটা বাহিনীকেই এখনো পুরোপুরি আয়ত্ত্বে আনা যায়নি, অর্থাৎ পুলিশ-বিজিবির মতো ছাত্রলীগের দলীয় ক্যাডার দিয়ে ভরে ফেলা যায়নি - সেটি সেনাবাহিনী। আপনার গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন যার কারণে শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে তার সরকারের বড়-বড় সংকট মোকাবেলাতেও (যেমন, বিডিআর বিদ্রোহ, শাপলা চত্ত্বরের ঘটনা, ২০১৪ সালের ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলা) ব্যবহার করেননি। কারণ তিনি তার শাসন ব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর অংশীদারত্ব তৈরি হোক এটি চাননি। যেসব লোকজন ২০০৭ সালের ঘটনা ঘটিয়েছে, অর্থাৎ যাদের অংশীদারত্ব ছিলো, তাদেরকে হয় বাহিনী থেকে বিদেয় দেওয়া হয়েছে (প্রেষণে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীদের মতো, কিংবা অবসরে পাঠিয়ে) অথবা কেউ আরো করুণ ভাগ্য বরণ করেছে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে যেটি করা হয়েছে তা হলো তাদেরকে বিভিন্নভাবে অর্থকরি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে তাদের একটা অংশকে অর্থের লোভে বশীভূত করা হয়েছে। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি, সেগুলোতে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা, কিংবা সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের মাধ্যমে এই পেশাদার বাহিনীর মাঝে লোভ তৈরি করা হয়েছে যে “নিয়ন্ত্রণে” থাকলে “লাভবান” হওয়া যায়। সুতরাং একদিকে এটিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে সুকৌশলে দূরে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে টাকা-কড়ির লোভ সাজিয়ে আরেকটা বড় অংশকে কো-অপ্ট করা হয়েছে। এই দুইয়ের সম্মিলনে থ্রেটটিকে নিউট্রাল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জেনারেল আজিজকে সামনে রেখে সামরিক বাহিনীকে পেরিফেরালি ব্যবহার করা হয়েছে - মূখ্যভাবে কোনো মতেই নয়। অর্থাৎ মাঠে সামরিক বাহিনীকে হাত-পা বেধে নামানো হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন যে তাদেরকে “হাত-পা বেধে সাতার কাটতে পাঠানো হয়েছে” - যার কারণে তারা দেখেছে যে রাতে ভোট হয়েছে কিন্তু তথাকথিত ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া তারা একপাও নড়তে পারেনি। সেনাবাহিনীর প্রথাগত মিশন কমান্ড, অর্থাৎ ফিল্ড অফিসাররা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা [যেটিকে আমরা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বলছি], কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে তাদের সাক্ষী গোপাল হয়ে নির্বাচনী ডাকাতি দেখা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর ছিলো না।

৯। এত কিছুর পরও আমি লোকজনকে প্রায়শই বলি যে এই মাফিয়াতন্ত্র মাঝে-মাঝে যে একটু সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায় তার কারণ সেনাবাহিনীকে এটি পুরোপুরি করায়ত্ত করতে পারেনি। এটি একটি অনির্বাচিত অবৈধ শাসকের জন্য নাইটমেয়ারস্বরূপ। তাকে প্রতিনিয়ত দুঃস্বপ্নের মধ্যে থাকতে হয় যে কখন তার অবৈধ কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ হয়। এ ধরনের অস্বস্থি আমরা দেখেছি কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড ও ঢাকায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু তারা কি এই পরিস্থিতিও তাদের অনুকূলে আনতে কাজ করছে না? হ্যাঁ, শুরু করেছে। প্রথমত, নিয়োগ ব্যবস্থাকে ম্যানিপুলেট করে। দ্বিতীয় সংগঠিত প্রতিবাদের জায়গাগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে (রাওয়া ক্লাব ভেঙে দেওয়া)। আমি লোকজনকে বলি, এই মাফিয়াতন্ত্রকে আর ৪-৫ বছর সময় দেন, তারপর সিরিয়ার আসাদ ফ্যামিলির মতো বাংলাদেশকে ৩০ বছর জোর করে শাসন করার সমস্ত রসদ এই মাফিয়াদের হাতে চলে আসবে। এই পাঁচ বছরে তারা সেনাবাহিনীর সমস্ত রিক্রুটমেন্টকে ম্যানিপুলেট করে ওই বাহিনীকে পুলিশের এক্সটেনশন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পাবে। অর্থাৎ এই মাফিয়াতন্ত্র ৫ বছর সময় পেলে তার মেয়াদ ২০৪১ ধরে রাখতে পারেন।

Sultan Mohammed Zakaria, 06/02/2021


বিশ্বের কোনো দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারো নেই। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।সকল নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে আল জাজিরা যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আল জাজিরা মূলত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে।

কোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মিলিটারি-মিডিয়া সম্পর্কের মাঝে নির্দিষ্ট ব্যারিয়ার থাকে। সীমিত আকারে যে সম্পর্ক হয় সেখানে মিডিয়ার ভূমিকা হয় ইমেজ বিল্ডিংয়ের এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লো ইনটেনসিটি কনফ্লিক্ট (LIC) এ সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে। মিডিয়া বিপরীত ভূমিকা পালন করে শুধুমাত্র শত্রু দেশের বিরুদ্ধে অর্থাৎ ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার হিসেবে প্রতিপক্ষের মনোবল ধ্বংস করার জন্য।

বাংলাদেশ কি আল জাজিরার কাছে শত্রু দেশ? যারা আল জাজিরাকে সমর্থন করছে তারা কি আসলেই জানে তারা কি করছে?

সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জড়িত। এ কারণে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা তাদের নিজস্ব আইনে পরিচালিত। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে আমি/আপনি ক্যান্টনমেন্টে ফুটবল খেলতে পারি না। তেমনিভাবে বাক স্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে সেনাবাহিনী নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করতে পারি না; তাদের বিরোধিতায় মাঠ গরম করতে পারি না। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা শুধু তখনই প্রতিবাদ করতে পারি যদি সামরিক শাসন জারি করা হয়। এ প্রতিবাদের অধিকার শ্বাসত এবং এমন প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও আমরা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করি না।
কোনো দেশের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা জাতিসংঘের বিধানের পরিপন্থী। তাই মিডিয়া যখন শত্রু দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে তখনও নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে থেকে খবর প্রকাশ করে, কোনো সেনাসদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয় না। ভারত-পাকিস্তানের চরম বৈরি সম্পর্কের সময়ও কারো চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয় না, স্ট্র্যাটেজিক বিরোধিতা করা হয়।

সেনাবাহিনী কি ক্রয় করেছে, কোন দেশ থেকে কি প্রযুক্তি গ্রহণ করছে, কোথায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, কোন খাতে কত খরচ করছে - এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার আমাদের বা মিডিয়ার নেই। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সকল তথ্য পাবলিক করা হয় না। এছাড়া একজন সেনাপ্রধানের চরিত্রহনন বা তার পরিবার নিয়ে প্রশ্ন তোলা, কারো ব্যক্তিগত ভিডিও প্রচার করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড শিষ্টাচার বহির্ভূত, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং ফৌজদারি অপরাধ।

একজন সেনাপ্রধানের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মেয়াদ সম্পন্ন করা। কাউকে ক্ষমতায় বসানোর বা ক্ষমতা থেকে সরানোর দায় কোনো বাহিনীর নয়। সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালনের কারণেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অর্জন করে সর্বাধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এটাই কি নব্য রাজাকারদের ক্ষোভের কারণ? সেনাপ্রধান তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন - এটাই কি রাজাকার শাবকদের দৃষ্টিতে অপরাধ।

বিএনপি জামায়াত দীর্ঘদিন যাবত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রতি সহানুভূতির দাবি করে যদি সেনাপ্রধানের চরিত্রহননের অপচেষ্টা করা হয়, তখন তাকে আর যাই হোক দেশপ্রেম বলা যায় না। তাই আল জাজিরা ইস্যুতে বিএনপি জামায়াতের অবস্থান কি তা সামনে আনা উচিত। এছাড়া যারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মূলত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে সকল দলকে সম্পৃক্ত করা উচিত। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ঘৃণ্য তৎপরতা বন্ধে আল জাজিরা নিষিদ্ধ ঘোষণা সহ কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

Abdullah Harun Jewel


- ভাই,আপনার ছেলে আমার জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি করেছে।
- প্রমাণ কি?
- এই যে ভাই,আমার দোকানের সিসিটিভির ফুটেজ আছে। এই যে আপনার ছেলেকে ফুটেজে দেখা যাচ্ছে।
- তোমার দোকানে সিসিটিভি লাগাইছে কে?
- আফজাল সাহেবের সিকিউরিটি সিস্টেম কোম্পানি।
- তুমি কি জানো? আফজাল সাহেবের দাদা রাজাকার ছিল।
- কিন্তু ভাই, আপনার ছেলে তো আমার দোকানে ডাকাতি করল।
- প্রমান কি?
- এইযে ভিডিও ফুটেজ।
- তুমি কি জানো,আফজাল সাহেব ঘুমে পাদে।
- কিন্তু আপনার ছেলে তো...
- না,তুমি বললে তো হবেনা,তুমি কি জানো? আফজাল সাহেবের ছেলে গাঁজা খায়।
- ভাই আমি তো ওই কথা শুনতে আসি নাই,আমি বলছি আপনার ছেলে আমার দোকানে ডাকাতি করছে।
- এ সব ষড়যন্ত্র।
- কিন্তু আমার কাছে তো সিসিটিভির ফুটেজ আছে।
- তুমি কি জানো? আফজাল সাহেবের প্রথম বউকে সে তালাক দিয়েছে।
- কিন্তু ভাই,আপনার ছেলে যে আমার দোকানে ডাকাতি করল,তার কি হবে?
- এ সব মিথ্যা বানোয়াট, ষড়যন্ত্র।
- আমার কাছে তো প্রমাণ আছে,এই যে সিসিটিভির ফুটেজ দেখেন।
- এই সিসিটিভি লাগাইছে কে?
- জ্বী আফজাল সাহেব।
- তুমি কি জানো,আফজাল সাহেব ঘুমে পাদে?
.
- ভাই মাফ চাই,ভুল হইয়া গেসে,আপনার ছেলে নির্দোষ।
সব দোষ আফজাল সাহেব ও তার সিসিটিভির।
.
বিঃদ্রঃ-গল্পটি সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত,অবাস্তব, অলীক।
কোন ঘটনার সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নয়।
robi hasan (see comment)


বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের আচরণ নিয়ে অনেকের বিস্ময়ে আমার হাসি পাচ্ছে। ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলো নিজেদের ইনঅ্যাকশনের ব্যাখ্যা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। জেনারেল আজিজ আহমেদের ভাইদের নিয়ে রিপোর্ট ভয়ে করেননি। এরকম বহু বহু রিপোর্ট তো আমরা আপনারা করি না। হাজার উদাহরণ না দেই। একটি উদাহরণ দেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জাতির জনক না? তাকে সপরিবারে আত্মীয় পরিজনসহ হত্যা করাটা খবর কি না বলেন? যদি খবর হয়ে থাকে তাহলে ১৭ই আগস্ট, ১৯৭৫ এর সবগুলো সংবাদপত্র বের করেন। সেদিন সবগুলো সংবাদপত্র আর্মির ইনস্ট্রাকশন ফলো করে খন্দকার মোশতাক নতুন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন সেই খবর শিরোনাম করেছিল। আলোচনা যখন করবেন ইতিহাসটাও টানবেন। যে দেশের পুরো নিউজ ইন্ডাস্ট্রি জাতির পিতার হত্যার খবর হজম করে ফেলতে পারে তারা সবই করতে পারে। আপনারা আর কি কি রিপোর্ট হজম করেন আমরা জানি। বাংলাদেশ রাতারাতি আমেরিকা হবে না আমি জানি। এমনকি আপনাদের আল জাজিরাকে বলেন কাতারের রয়েল ফ্যামিলি নিয়ে রিপোর্ট করতে। জগত ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট না। আমরা সাংবাদিকরাও না। জগত এমনই ভাইয়েরা। সব সত্য আনকাভার করা যায় না। করা হয় না।

Gazi Nasiruddin Ahmed, Journalist Desh Rupantor, 05/02/2021

Updated: 6 February 2021