BDINFO.ORG

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > খেলাপি ঋণ কমেছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা

খেলাপি ঋণ কমেছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা

10 February 2021, by sharebiz

জয়নাল আবেদিন: বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দেয়ার ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে পাঁচ হাজার ৫৯৭ কোটি ২৬ হাজার টাকা। ফলে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ছয় লাখ টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। সরকারের দেয়া সুবিধা না থাকলে আগামী বছর ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যমতে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৪২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ হওয়া ঋণের পরিমাণ আট লাখ ৬৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ৫৮ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বিতরণ করেছে বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে দুই হাজার ৩৮ কোটি টাকা। ৩০ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংক। অন্যদিকে তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬১ কোটি টাকায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শেয়ার বিজকে বলেন, ২০২০ শেষে ব্যাংক খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ছয় লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ। কিন্তু তিন মাস আগেও খেলাপি ঋণের হার ছিল আট দশমিক ৮৮ শতাংশ।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কোনো কিস্তি পরিশোধ না করলেও গ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। এ সময়ের মধ্যে ঋণের ওপর কোনোরকম দণ্ড, সুদ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ করা যাবে না।
২০১৯ সালের ১৬ মে ঋণখেলাপিদের মোট ঋণের দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয় সরকার। সরকারের দেয়া ‘বিশেষ’ ওই সুবিধার আওতায় বহু খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলো নবায়ন করে, যার অর্ধেকই করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েও গত বছর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল

করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করেছে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে এ অর্থ বাদ যাবে, যদিও তা সহসাই ফেরত আসছে না ব্যাংকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ঋণগ্রহীতা আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছেন। ফলে ঋণখেলাপি হিসেবে তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) উল্লেখ করা হচ্ছে না। এ রকম ঋণের পরিমাণ এখন ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বেশি, কিন্তু এটাও অনেক। কমে আসাটা ইতিবাচক। হয়তো নতুন ঋণে শর্ত যোগ হওয়ায় বড় খেলাপিরা কমিয়ে দিচ্ছে নতুনটি পাওয়ার আশায়। আবার ব্যাংকারদের কড়াকড়ি আরোপও কমে আসার আরেকটি কারণ হতে পারে।
সাবেক এ গভর্নর আরও বলেন, এখন খেলাপিদের অনেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নতুন করে প্রণোদনার ঋণ নিতে চাচ্ছেন। ফলে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে কিছু টাকা আদায় করা হয়েছে, এটা খুব বেশি বলা যাবে না। তাছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের ঋণ আদায়ে শিথিলতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সময় শেষে মোট খেলাপি কমলেও আগামী বছর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
করোনার কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধের সময় আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ডাউনপেমেন্ট না দিয়ে চলমান সব ঋণ তিন বছর মেয়াদে পুনঃতফসিলের সুযোগ চান তারা। এছাড়া বিদ্যমান মেয়াদি ঋণ পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাড়তি যে দুই বছর সময় দিয়েছে, তা তিন বছর করার দাবি করা হয়েছে। এসব দাবি মেনে নিলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের আসল চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে বলেও মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সাবেক গভর্নর।

Updated: 9 February 2021